ঢাকা , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ , ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে নড়বড়ে কাঠের সাঁ'কোয় ঝুঁ'কিপূর্ণ পারাপার, জ'নদু'র্ভোগে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২১ ১৮:৫৭:৫১
কুড়িগ্রামে নড়বড়ে কাঠের সাঁ'কোয় ঝুঁ'কিপূর্ণ পারাপার, জ'নদু'র্ভোগে হাজারো মানুষ কুড়িগ্রামে নড়বড়ে কাঠের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, জনদুর্ভোগে হাজারো মানুষ
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-



কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রাজারঘাট এলাকায় তিস্তা খালের ওপর নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ। নতুন সেতু নির্মাণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ সড়কের রাজারঘাট এলাকায় তিস্তা খালের ওপর পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এডিপির জরুরি সহায়তায় ‘বন্যা-২০২২ এ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।


নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলার পর যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য পাশেই বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই সাঁকোটি নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারীসহ হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি পারাপার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁকোটি দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেসার্স খায়রুল এন্টারপ্রাইজ, কুড়িগ্রাম। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সোলায়মান আলী বলেন, ‘এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ি উল্টে যায়। অনেক মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।’ এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির গাফিলতির কারণেই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে অস্থায়ী সাঁকোর পরিবর্তে নিরাপদ সেতু চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, ‘বর্ষার কারণে কাজের কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, বাকি কাজ দ্রুত শেষ হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ